বর্ষশেষের ভাবনা



বর্ষশেষের ভাবনা

বর্ষ শেষ। সত্যিই কি শেষ? এতো একটি সংখ্যা মাত্র। হিসাবের সুবিধার্থে। নয় তো এই মহাবিশ্বে সময়ের হিসাবই বা কি? আজও কেউ তার সঠিক হিসাব দিতে পারে নি। পৃথিবীর কথাই যদি ধরা যায়, তারও তো সঠিক হিসাব নাই। কত বয়স আমাদের পৃথিবীর? সেই বয়সের অনুপাতে ২০১৮ বছর কতক্ষণ মাত্র? এবং এই ২০১৮ বছর এটাও তো আসল হিসাবও নয়। হঠাৎ করে একটি দিনকে খুঁটি ধরে হিসাব কষে চলা মাত্র। তার বেশি কিছুই নয়। চিন্তা করলে হাসির উদ্রেক হওয়ারই কথা। ফলে ২০১৮ শেষ হওয়ায় সত্যিই কি কিছু এসে যায় আমাদের? না যায় না। আর যায় না বলেই বর্ষশেষের দিন শোকদিবস বলে পালিতও হয় না কোথাও। বরং নতুন বছরের আগমনী আনন্দেই মানুষের উৎসব। কিন্তু এই যে ১৮’র পর ১৯ এর প্রাসঙ্গিকতাও বা কতটুকু? দৈনিক রুটিনের বাইরে! সময়ের পরিবর্তন তো আর ক্যালেণ্ডার ধরে হয় না। হয়নিও কোনদিন। ইতিহাসই সাক্ষী। তাই ২০১৮ই হোক বা ২০১৯ সময়ের অবস্থান একরৈখিকই থাকে। আর থাকে বলেই সংখ্যাতত্বের উর্ধে বা ক্যালেণ্ডারের পাতা ছাড়া অন্য কোন পরিবর্তন চোখেও পড়ে না আমাদের। ঠিক যেমন ২০১৭’র সাথে ২০১৮’র তফাৎ ছিল কি কোথাও? ফলে বর্ষশেষ একটা সংখ্যাগত অবস্থান মাত্র। অবস্থানগত পরিবর্তন নয়।

অবস্থানগত পরিবর্তন ক্যালেণ্ডারের পাতায় হয় না। সেটিকে মানুষের কাজে পরিকল্পনায় সাধনায় ঘটাতে হয়। বা মানুষের লোভ লালসা জৈবিক প্রকৃতিতে স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই ঘটতে থাকে কালে কালে। মহামতী ডারউইনের বিবর্তনবাদের হাত ধরেই ঘটে চলে এই অবস্থানগত পরিবর্তন। যেখানে আধুনিক সভ্যতায় সবচেয়ে বড়ো ও নির্ণায়ক ভুমিকা নিয়ে থাকে সমাজ ও রাষ্ট্র। আমরা সাধারণ জনসমাজ সেই পরিবর্তনের সাথে প্রতিনিয়ত খাপ খাইয়ে নিয়ে এগিয়ে চলার চেষ্টা করি। করতে পারলে ভালো। না পারলে থেমে যেতে হবে। বিরল প্রজাতির কোটায় চলে গিয়ে একদিন অবলুপ্তির দিকশূন্যপুরে হারিয়েও যেতে হতে পারে।

তাই আমাদের ধর্মই হলো পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিয়ে চলা। সেটাকেই আমরা বলি বিচক্ষণতা। একটু চিন্তা করলেই দেখা যায়, এই বিচক্ষণতায় সততা ন্যায় নীতি ও মানবিক আদর্শের পরিসরগুলি ততটা শক্তিশালী নয়। কারণ বলাই বাহুল্য। আসল কথা সময়ের সাথে টিকে থাকা। এবং সেই সাথে আর পাঁচজনের থেকে ভালো ভাবে টিকে থাকা। তাই এই টিকে থাকার লড়াই বা কার্যক্রমই আমাদের কাছে প্রতিটি বছরের মূল কাজ ও লক্ষ্য। ঠিক এই কারণেই প্রতিটি বছরই তার স্বভাবধর্মে পূর্ববর্তী বছরের অনুরূপ বা সার্থক অনুসরণকারী। যদি আমরা সত্যি করেই আবহমান সময়কে ক্যালেণ্ডারের পাতায় আলাদা আলাদা করে চিহ্নিত করার চেষ্টা করি তাহলে এটাই তো দেখা যায়।

কিন্তু তবুও কোথাও না কোথাও চোরা স্রোতের মতো সমাজ ও সমকাল বদলাতে থাকে ঠিকই। আর সেই বদলটা হয় এক একটি প্রজন্মের মূল্যবোধের হাত ধরেই। পূর্ববর্তী প্রজন্মের অপসারণের ফলে তৈরী হওয়া ফাঁকা জায়গাটা নতুন প্রজন্ম কিভাবে পূরণ করবে তার হাত ধরেই এই বদল ঘটতে থাকে। কোন কোন কালে ধীর গতিতে। কোন কোন কালে দ্রুত গতিতে। সেই বদল রাজনীতি অর্থনীতি শিল্পবাণিজ্য সাহিত্য সংস্কৃতি প্রভৃতি প্রতিটি দিগন্তেই ঘটতে থাকে। আমাদের চলাচল সাহিত্যসংস্কৃতির পরিসরে বলেই আসুন একটু উঁকি দিয়ে দেখা যাক ২০১৮’র শেষে কোন অবস্থানে রয়েছি আমরা।

১৮’র শেষ হলো বাংলাসাহিত্য সংস্কৃতির বিংশ শতকের কয়েকজন দিকপাল ব্যক্তিত্বের মহাপ্রয়ানের হাত ধরেই। চলে গেলে রমাপদ চৌধুরী, ও অভিন্নহৃদয়ের বন্ধু নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। চলে গেলেন দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়। চলে গেলেন মৃণাল সেন। হঠাৎ যেন মনে হলো অবসান হয়ে গেল একটা গোটা শতাব্দীরই। প্রত্যেকেই নব্বইয়ের কোঠায় এসে বিদায় নিলেন। রেখে গেলেন তাঁদের চিন্তাভাবনা সৃষ্টিশীলতা সৃজনশীলতার দিগন্তকে। যে দিগন্তের ভিতর ধরা থাকলে গত শতকেরই ইতিহাস। এইভাবেই এক একটি শতাব্দীর মৃত্যুর হাত ধরে জন্ম হয় নতুন শতকের। এও এক বর্ষ শেষের মতো বিষয়। বলা যেতে পারে শতাব্দীর সমাপ্তি। এখন আমারা পৌঁছিয়ে গিয়েছি নতুন একটি শতাব্দীতে। যাঁরা চলে গেলেন, তাঁদের শূন্যস্থানে চলে আসছেন অন্যেরা। অন্য কোন মূল্যবোধে। নতুন কোন সংস্কৃতি নিয়ে। ফলে তলায় তলায় পরিবর্তন তো একটা ঘটছেই। সুস্পষ্ট ভাবে।

যাঁরা চলে গেলেন তাঁদের প্রত্যেকেরই সাহিত্যদর্শন মানবিক মূল্যবোধ রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নাই। কিংবা শুধু এই কয়জনই নন, বিংশ শতকের অধিকাংশ সৃজনশীল সৃষ্টিশীল প্রতিভাই মোটামুটি একধরণের মূল্যবোধের ধারক ও বাহক ছিলেন। ব্যতিক্রম সকল যুগেই থাকে। কিন্তু সেই মূল্যবোধের কেন্দ্রে ছিল সমাজ ও সংস্কৃতি। ন্যায় ও নীতি। বিবেক ও আদর্শ। এই যে প্রায় দল বেঁধেই এরা বিদায় নিলেন, কেউই কি এঁদের ভিতর আদর্শহীনতা অনৈতিকতা ইত্যাদি রোগলক্ষ্মণগুলি প্রত্যক্ষ করেছেন কখনো? করেন নি বলেই আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। আর ঠিক সেই জন্যেই আজ এঁদের অভাব অনুভব করছি আমরা। তাঁরা কেউই হঠাৎ করে চলে যানও নি। যাওয়ার সময়ই গিয়েছেন। কিন্তু তাঁদের থেমে যাওয়ার পর আজ যাঁরা  সাহিত্যসংস্কৃতির মুখ্য মুখ হয়ে উঠেছেন, তাঁদের সম্বন্ধে কি আমরা এমনই নিশ্চিত হতে পারছি। বিংশ শতকের মনীষীদের বুদ্ধিজীবীদের ভিতর যে ন্যায়নীতি বিবেক ও আদর্শের গতিধারা প্রবাহমান ছিল, একবিংশ শতকে এসে কোথাও কি মনে হচ্ছে না, তলায় তলায় ঘটে গিয়েছে একটা পরিবর্তন? এবং সেটি ঘটেছে একেবারে চরিত্রগত ভাবেই। কালগত ভাবে নয়। কালগত পরিবর্তনে চিন্তার কিছু থাকে না। যেমন রবীন্দ্র উত্তর যুগ নিয়ে কেউ কখনো বিশেষ চিন্তান্বিত হন নি। হলেও তা প্রকরণগত। চরিত্রগত পরিবর্তনের সংশয় ছিল না সে সময়। কালের সাথে প্রকরণগত পরিবর্তন ঘটবে সেটাই স্বাভাবিক। সেটাই সূচিত করে অগ্রগতির। ঠিক যেমন ঊনবিংশ শতক থেকে বিংশ শতকের উত্তরণে ঘটেছিল।

আজ কিন্তু আমরা আর অতটা নিশ্চিন্ত হতে পারছি না। পারছি কি? বিংশ শতকের পর এই একবিংশ শতকের বাংলা সাহিত্যসংস্কৃতি জগত যেন একটা চরিত্রগত পরিবর্তনের ভিতর দিয়ে নতুন একটা অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে। ঘটে গিয়েছে বেশ বড়োসড়ো একটা পরিবর্তন। আজকের কবি সাহিত্যিকদের সৃজনশীল প্রতিভাদেরকে যেভাবে নির্দিষ্ট ভাবে কোন না কোন রাজনৈতিক অক্ষের পক্ষ নিয়ে দাঁড়াতে হচ্ছে, তেমনটি কিন্তু দেখা যায় নি বিগত কোন শতকেই। রাজনৈতিক বিভিন্ন শক্তিগুলি যেভাবে আজ কলমেকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেছে, তেমনটি কিন্তু আগে ঘটেনি এই বাংলায়। কলমের স্বাধীনতা, সৃজনশীল মননের স্বাধীনতা আজ কিন্তু নানান ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। সেটি আমরা স্বীকার করি আর নাই করি। অনেকেই বলতে পারেন, ব্যক্তিমানুষ কখন কোন পক্ষ নেবেন, কিভাবে কখন কেন বদলাতে থাকবে তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শ সেটি প্রত্যেকের মৌলিক অধিকারের বিষয়। অবশ্যই। কোন ভুল নাই। নাই বিতর্কের অবকাশও। কিন্তু একজন সৃজনশীল ব্যক্তিকে কেন কোন না কোন রাজনৈতিক শক্তির অক্ষে ঘুরপাক থেকে হবে? সৃজনশীলতার দিগন্তে রাজনৈতিক ক্ষমতা চর্চার কেন্দ্র কেন হঠাৎ একটি প্রয়োজনীয় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে? সেই প্রশ্নটিও তো স্বাভাবিক ভাবেই উঠে আসতে পারে নাকি?

ক্ষমতার কেন্দ্রগুলি যদি সৃজনশীল ব্যক্তিসত্ত্বাগুলির কাছেও হঠাৎ প্রলোভনের বিষয় হয় দাঁড়িয়ে যায়, সেটি কি কোন সমাজের পক্ষে তার সংস্কৃতির পক্ষে গর্বের বিষয় হয়ে উঠতে পারে? সমাজ সংস্কৃতির পক্ষে তার প্রভাবই বা কতটা স্বাস্থ্যদায়ক? এই বিষয়গুলি নিয়ে চিন্তাভাবনারও কি কোন প্রয়োজন নাই আর আজ? আমরা কি এতটাই অসংবেদনশীল হয়ে পড়েছি। আমরা কি বুঝতে পারছি না, আজ যাঁরা ক্ষমতার কেন্দ্রগুলিকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তারের হাতিয়ার হিসাবেই ব্যবহার করা শুরু করে দিয়েছেন, তাঁরা অচিরেই রাজনৈতিক ক্ষমতাগুলির ক্রীড়নকে পরিণত হয়ে যাবেন? একটি জাতির সাহিত্য সংস্কৃতির জগতের প্রধান মুখগুলির অধিকাংশই যদি এইভাবে স্বেচ্ছায় রাজনৈতিক শক্তিগুলির হাতের পুতুল হয়ে উঠতে থাকেন, তবে সেই জাতির সাহিত্য সংস্কৃতির অধঃপতন অবধারিত যে সে কথা তো বলাই বাহুল্য।

আজ যাঁরা চলে গেলেন, তাঁদের ছেড়ে যাওয়া শূন্যস্থান যদি এইভাবে একের পর এক দমদেওয়া পুতুলদের দ্বারাই পূর্ণ হয়ে উঠতে থাকে, তবে বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতির সামনে বড়োই দুর্দিন। পরবর্তী প্রজন্মগুলির উপর এর প্রভাব পড়তে থাকবে মারাত্মক ভাবেই। যেখানে সমাজ ও সংস্কৃতিতে ন্যায় ও নীতি, বিবেক ও আদর্শের জায়গাগুলি ভরে উঠতে থাকবে সুযোগ ও সুবিধা, জনপ্রিয়তা ও প্রতিপত্তির গরিমায়। যার যত দলভারী, তারই তত পোয়াবারোর সময় এখন। রাজনৈতিক ক্ষমতার অক্ষের সাথে সহাবস্থানেই সবচেয়ে বেশি লাভ এই একবিংশ শতকরের সাহিত্য সংস্কৃতির জগতে। গোটা সমাজটাই এখন আবর্তিত হচ্ছে এই মূল স্রোতের অভিমুখেই।

লেখার শুরুতে যে কথা বলছিলাম, আমাদের প্রকৃতিই হল সময়ের সাথে যুগ পরিবর্তনের ধারার সাথেই মানিয়ে নিয়ে চলা। সেটাই টিকে থাকার প্রধানতম শর্ত। আজকের কবি সাহিত্যিক শিল্পী কলাকুশলী বুদ্ধিজীবীরাও তো ঠিক সেই যুক্তিই দিতে পারেন। তাই না কি? তাঁদেরও এই সময়ের সাথে মানিয়ে নিয়ে চলতে হচ্ছে ঠিক সেই টিকে থাকার শর্তেই। তাই তাঁরাও যে যার পরিসরে বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের হাতের পুতুল হয়ে উঠছেন স্ব ইচ্ছাতেই। যে যুগের যে ধর্ম। শুধুই শব্দচয়ন করে বা গলা সেধে কিংবা নাটকের সংলাপ আউরিয়ে কবি সাহিত্যিক শিল্পীদের কোন ফয়াদা নাই। যদি না প্রভাব প্রতিপত্তি ও জনপ্রিয়তার বিস্তার ঘটানো সম্ভব হয়। তাই যুগের ধর্মেই তাঁদেরকে রাজনৈতিক শক্তিগুলির দ্বারস্থ হতে হচ্ছে হবে। এমনটা বলতেই পারেন তাঁরা। বলুন বা নাই বলুন সেটাই যে ঘটনা, সেকথা বুঝতে অসুবিধা হওয়ারও কথায় নয় আমাদের। এটাই আজকের রীতি। অর্থাৎ বিংশ শতকের সাথে এখানেই মস্তবড়ো একটা ফারাক ঘটে গিয়েছে আজকের সাহিত্য সংস্কৃতির জগতে। যার ফলে মধ্য মেধা বা মেধাহীন সুযোগসন্ধানীদেরই রমরমার সময় এখন। কারণ এখন আর প্রতিভাই জনপ্রিয়তার চাবিকাঠি নয়। জনপ্রিয়তার চাবিকাঠি সঠিক ভাবে সময় বুঝে রাজনৈতিক শিবির নির্বাচন! তাহলেই কেল্লাফতে। প্রভাব প্রতিপত্তির সাথে জনপ্রিয়তা ফাউ হিসাবেই লাভ হয়ে যাবে। আর তখন রাজত্ব করা অনেক সহজ হয়ে যাবে নিজ নিজ পেশা বা কর্মের ক্ষেত্রে। তৈরী হবে ভক্তবৃন্দ থেকে বিশাল বিশাল স্তাবক গোষ্ঠী। যারা যখন তখন প্রয়জনে অপ্রয়োজনে পান থেকে চুন খসলেই চোখ রাঙিয়ে সিধে করে দিতে পারবে যাবতীয় সমালোচনা।

না রমাপদ চৌধুরী নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী দ্বিজেন মুখোপাধ্যায় কিংবা মৃণাল সেনদের এইভাবে এই প্রক্রিয়ায় জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে হয় নি। হয় নি বাংলার সাহিত্য সংস্কৃতির উপর প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তারের কোন রকম কসরত করতেও। তাঁরা তাঁদের আপন প্রতিভার আলোতেই তৈরী করে নিয়েছিলেন এক একটি নিজস্ব রাজপথ। পরবর্তীতে সেই পথেই এগিয়ে চলেছিল আমাদের সহিত্য সংস্কৃতির জগত। স্বাধীন ভাবে। মৌলিক শক্তিতে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এটাই যে, তাঁদের ফেলে যাওয়া শূন্যস্থানগুলি এখন ভরাট হচ্ছে যেভাবে, তাতে বাংলার সহিত্য সংস্কৃতির রাজপথ আর প্রশস্ত থাকছে না কোনভাবেই। সেটি সঙ্কুচিত হতে হতে ক্রমশ ঘুপচি গলিতে পরিণত হয়ে চলেছে। যেখানে দিনে দিনে জমে উঠছে ক্ষমতা প্রভাব প্রতিপত্তির দুর্বিষহ জঞ্জাল। সেই পুতিগন্ধময় পরিবেশেই শেষ হচ্ছে ২০১৮। সেই পরিবেশই সাদরে বরণ করে নেবে ২০১৯’কে।

প্রশ্ন এখন একটাই আমরা কি এই পরিবেশের সাথেই মানিয়ে গুছিয়ে নিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করে যাবো অবিরত? নাকি আমাদের চারপাশটা মানুষের বাসযোগ্য করে যাওয়ার কথা ভাবতে শুরু করবো নতুন করে? নবজাতকের জন্যে জঞ্জাল সরানো তো অনেক পরের কথা, আগে নিজেদের সুস্বাস্থ্যের জন্য জঞ্জাল না সরালে, দমবন্ধ হয়ে ধুঁকতে থাকা ছাড়া আর কোন গতি থাকবে কি? কি বলবো আমরা ২০১৯’এ?

১৫ই পৌষ’ ২০২৫

কপিরাইট শ্রীশুভ্র কর্তৃক সংরক্ষিত

মন্তব্য